৪কোটি টাকার পরিত্যক্ত গাড়ি মিলল হাতিরঝিলে

0
65

রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৪ কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল পোরশে গাড়ি উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সোমবার সকালে হাতিরঝিলের মধুবাগ ব্রিজের ওপর একটি চিঠিসহ গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়িটি দেশে নিয়ে আসা হয়। নির্ধারিত শুল্ক পরিশোধসাপেক্ষে এর মূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ৩২ সিসি পোরশে কায়ানে ৯৫৫ মডেলের গাড়িটি ২০০৫ সালে তৈরি। জানা গেছে, গাড়ির মালিক ফরিদা রশিদ ইংল্যান্ডপ্রবাসী। তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইংল্যান্ডের নাগরিক।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের উপপরিচালক শরীফ আল হাসান বলেন, গাড়িটি কে বা কারা ফেলে গেছে, তা জানা যায়নি। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কারনেট সুবিধায় গাড়িটি আনা হয়েছিল। তবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। গ্যারেজ নম্বরে গাড়িটি চলছিল। পরিত্যক্ত পোরশে গাড়িটির কোনো বৈধ মালিকানা ও কাগজপত্র না পাওয়ায় তা জব্দ করা হয়। ওই গাড়ির চাবি ভেতরে পাওয়া যায় এবং ড্রাইভারের সিটে একটি চিঠিও পাওয়া গেছে। তবে সে চিঠিতে নাম-পরিচয় ছিল না। শুধু লেখা রয়েছে, আমি বিগত কয়েক বছর ধরে গাড়িটি ব্যবহার করছি। গাড়িটি আমার অনেক প্রিয় ও আবেগের। সম্প্রতি আমি জানতে পারি, এ গাড়িটিতে ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া হয়েছে। আমি সমাজের সম্মানী ব্যক্তি। আমাকে অনেকে এক নামে চেনে। মানসম্মানের কথা ভেবে আমি নিজের ইচ্ছায় গাড়িটি ফেলে রেখে গেলাম। দয়া করে আমাকে আপনারা খোঁজার চেষ্টা করবেন না। দেশব্যাপী পরিচালিত আপনাদের অভিযানগুলোর আমি প্রশংসা করছি। আমার অতিপ্রিয় এ গাড়িতে ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে অন্যায় করলেও এটি জমা দেয়ার মাধ্যমে আমি সেটির প্রায়শ্চিত্ত করলাম। 
উপপরিচালক শরীফ আল হাসান বলেন, গাড়িতে একটি চিঠি পাওয়া গেছে। চিঠিটি সম্ভবত গাড়ির মালিকের। শুল্ক গোয়েন্দার মহাপরিচালক মইনুল খান বরাবর এটি লেখা। চিঠিটি কম্পিউটারে কম্পোজ করা। চিঠিতে গাড়ির মালিক তার পোরশেটি স্বেচ্ছায় শুল্ক গোয়েন্দার কাছে হস্তান্তর করছেন বলে উল্লেখ করেন। এটি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা হয়েছিল। গাড়িটি শুল্ক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি সে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, পোরশে কায়ানে ৯৫৫ মডেলের গাড়িটি ২০০৫ সালে তৈরি। বাংলাদেশে ২০১০ সালে আনা হয়। কারনেট সুবিধায় গাড়িটি আনা হয়েছিল। তবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। গ্যারেজ নম্বরে গাড়িটি চলছিল।

Comments

comments

SHARE