মিরাকল বেবি,৪৫ মিনিট হৃৎস্পন্দন বন্ধ

0
58

শিশুটির বয়স তিন মাস। হৃদযন্ত্রে একটা ফুটো নিয়েই জন্ম তার। গত সপ্তাহে অস্ত্রোপচারের পরদিন ৪৫ মিনিটের জন্য তার হৃৎস্পন্দন হয়ে গিয়েছিল বন্ধ। এরপরেও বেঁচে আছে সে। আর তাই আরাধ্য নামের ওই শিশুকে বলা হচ্ছে মিরাকল বেবি।

আরাধ্যর হার্টের ফুটোর চিকিৎসা চলছিল মুম্বাইয়ের ওয়াদিয়া হাসপাতালে। সেখানে অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচারের পরের দিনে হঠাৎ করে তার হৃৎস্পন্দন কিছু সময়ের জন্য সাড়া দেওয়া বন্ধ করে। যন্ত্রের সাহায্য তার হৃৎস্পন্দন চালুর নিরন্তর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন চিকিৎসকেরা। কিন্তু মিলছিল না। তবে ৪৫ মিনিট পরে আবার তার হৃৎস্পন্দন পায় চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সে এখন সুস্থ। স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবে শিশুটি।

ওই হাসপাতালের শিশু হৃদরোগবিষয়ক শল্যবিদ বিশ্ব পান্ডে বলেন, ‘এই শিশুর অস্ত্রোপচারের পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রায় ২৬ ঘণ্টা সময় লাগে তার হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হতে। এটা পুরো দলের জন্য ছিল একটি পরিত্রাণের বিষয়।’

আরাধ্য গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত একটি পরিবার থেকে আসা এক শিশু। জন্মের পরই তার গাঁয়ের চামড়া নীল হতে শুরু করে। চিকিৎসকেরা বলছেন, যে শিশুরা শরীরে রক্ত সরবরাহের কম ক্ষমতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তারা ‘ব্লু বেবিজ’ হিসেবে পরিচিত। রক্তে অক্সিজেন নিম্ন মাত্রার থাকায় এমনটা ঘটে থাকে।

 আরাধ্যর বাবা রবীন্দ্র ওয়াগ বলেন, ‘আরাধ্য হৃদযন্ত্রে একটি ফুটো ছিল এবং হৃদযন্ত্রে রক্ত প্রবাহের নালী খুব ছোট ছিল। চিকিৎসকেরা আমাদের বলেছেন যে, এ জন্য সে যথেষ্ট পরিমাণে রক্ত সরবরাহ ও অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারবে না। এভাবে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনাও কমে আসবে। এ জন্য আমরা একটা উচ্চ আশা নিয়ে মুম্বাইয়ের এই হাসপাতালে এসেছি।’

চিকিৎসক পান্ডে বলেন, আরাধ্য মায়ের পেটে থাকতেই এ সমস্যায় আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে আমরা ওই অস্ত্রোপচার করি। কিন্তু অস্ত্রোপচারের ১৪ ঘণ্টা পরে আরাধ্যর হৃৎস্পন্দন কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এর পরেই চিকিৎসক দল দ্রুত কাজ শুরু করে দেয়।

চিকিৎসক পান্ডে বলেন, ‘আমরা ৪৫ মিনিট ধরে কৃত্রিমভাবে তার জ্ঞান ফিরিয়ে আনার জন্য চেষ্টা করছিলাম। তা সত্ত্বেও তার হৃৎস্পন্দন কাজ করছিল না। এ সময়ে আমি আস্তে আস্তে তার হৃদযন্ত্রে হালকা মালিশ করছিলাম, যেন শরীরের অন্যান্য অংশে রক্ত প্রবাহিত হয়। ৪৫ মিনিট পরে হৃৎস্পন্দন চালু হয় আরাধ্যর।’
এর পরের দুই দিন থেকে আরাধ্য স্বাভাবিক। তার হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক ছিল। এরপর সে দুধ পান করেছে। আরাধ্যর বাবা-মায়ের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তবে ওই হাসপাতাল চিকিৎসা বাবদ কোনো অর্থ নেয়নি। তথ্যসূত্র: দ্য হিন্দুস্থান টাইমস।

Comments

comments

SHARE