বিদেশে নারী শ্রমিক রফতানি : সমস্যা ও সম্ভাবনা

0
82

নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারে ও সমাজে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে নারী এখন ভূমিকা রাখতে চায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে। সে লক্ষ্যে নারী কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করতে চায়। এ কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের জন্য দেশীয় কর্মবাজার যথেষ্ট নয়, তাই বিদেশি কর্মবাজারও নারীদের আকৃষ্ট করছে

স্বাধীনতা স্বপ্নের চেয়েও বড়! আমাদের মেয়েরা সেটাই প্রমাণ করতে চলেছে শিক্ষাক্ষেত্রে এবং কর্মক্ষেত্রে। দেশের গ-ি পেরিয়ে মেয়েরা বিদেশেও কর্মসংস্থানে তৎপর। শিক্ষা অর্জন এবং কর্মদক্ষতা ও উদ্দীপনা স্বাধীনতাকে সামনে আনছে ক্রমে। সংবাদ মাধ্যমের ভাষ্যমতে, বিদেশে কর্মসংস্থানে বাংলাদেশের নারীর সংখ্যা গেল এক দশকে ১০ গুণ বেড়েছে। আর দুই দশক ধরলে এই বৃদ্ধি ৬০ গুণ। এটা বাংলাদেশের জন্য অপার এক সম্ভাবনা। তবে এ সম্ভাবনাকে ঘিরে কিছু সমস্যাও আছে। এসব সমস্যা নিরাময় করা না গেলে ক্রমবর্ধমান অপার সম্ভাবনার নিশ্চিত মৃত্যু ঘটবে। এ সম্ভাবনার হাতছানিকে স্বাগত জানাতে হলে উদীয়মান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দূর করা অত্যাবশ্যক। 
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী এক দশক আগে ২০০৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজার নারী বিদেশে কাজ করতে গিয়েছিলেন। আর ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা ১০ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৮ হাজারে। এ বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে গেছেন ২০ হাজার নারী। বিএমইটির মহাপরিচালক সেলিম রেজার জবানিতে ‘প্রথম আলো’ জানায়, এখন আর নারীদের বিদেশ যেতে কোনো খরচ হচ্ছে না। নিয়োগকর্তারাই টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। ফলে নারীরা বেশি বিদেশে যাচ্ছেন। এখন নারী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। ফলে সমস্যাও কমে আসছে। (৫ মার্চ, ২০১৭, প্রথম আলো)। আসল কথা হলো, সমস্যা সমাধান করতেই হবে। তা হলেই কাজে লাগানো যাবে। 
বিএমইটি’র মহাপরিচালকের বক্তব্যের প্রতিফলন দেখতে পাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ জর্ডানের নারী গার্মেন্ট কর্মী খোঁজার সাম্প্রতিক উদ্যোগে। (২৪ মার্চ, ২০১৭, যুগান্তর)। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে স্বল্প খরচে সরকারিভাবে জর্ডানে নারী মেশিন অপারেটর পদে মোট ৬০০ কর্মী নেয়া হবে। জর্ডানের ক্লাসিক ফ্যাশন অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড কোম্পানি এসব কর্মী নেবে। পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এরই মধ্যে কর্মী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানটি। উল্লিখিত পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ন্যূনতম অক্ষরজ্ঞান থাকতে হবে। বাছাইকৃতদের চুক্তি অনুসারে প্রাথমিকভাবে তিন বছরের জন্য নেয়া হবে। চাইলে বাড়ানো যাবে চুক্তির মেয়াদ। সপ্তাহে ছয় দিন, দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করতে হবে। চাইলে অতিরিক্ত সময়ও কাজ করা যাবে। সে ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর্মঘণ্টার মজুরি পাওয়া যাবে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান থাকা-খাওয়া ও প্রাথমিক সুবিধা দেবে। যাওয়ার বিমান ভাড়া ও ৩ বছর চাকরি শেষে দেশে ফিরে আসার বিমান ভাড়া কোম্পানি বহন করবে। নিয়োগের ধারাবাহিকতায় নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা বোয়েসেলের অফিসে পাঠানো হবে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নির্বাচিতদের বোয়েসেলের সার্ভিস চার্জ, বহির্গমন ট্যাক্স, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, বোয়েসেলের রেজিস্ট্রেশন ফি, স্মার্টকার্ড ফি ও ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ ফি বাবদ সব খরচ নিয়োগকারী কোম্পানি বহন করবে। এছাড়াও হাজিরা ভাতা, টার্গেট ভাতা, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ও উৎসব বোনাসসহ অন্যান্য সুবিধাদি দেয়া হবে। এসব কথামালা কাগজে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। তবে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের যেসব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়েছে, তা সাধারণের মনে ভীষণ উদ্বেগের জন্ম দেয়। 
বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের নারী শ্রমিকরা মূলত লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও জর্ডানে কাজ করতে যাচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছেন ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, কিশোরগঞ্জ, বরিশাল, হবিগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ থেকে। এক্ষেত্রে উত্তরাঞ্চল একদমই পিছিয়ে। 
নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবারে ও সমাজে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আনয়নে নারী এখন ভূমিকা রাখতে চায় অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে। সে লক্ষ্যে নারী কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করতে চায়। এ কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের জন্য দেশীয় কর্মবাজার যথেষ্ট নয়, তাই বিদেশি কর্মবাজারও নারীদের আকৃষ্ট করছে। নারীদের কর্মবাজারে অংশগ্রহণ অর্থাৎ চাকরিতে সম্পৃক্ত হওয়ায় দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের সায় আছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই শোভা পাচ্ছে। (৮ মার্চ, ২০১৭, প্রথম আলো)। আবার এমনও বলা যায়, দেশের পঞ্চাশ ভাগ মানুষ চায় না নারী উপার্জনের নিমিত্তে শ্রমবাজারে আসুক। 
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকে চায় নারী উপার্জন করুক, চাকরিতে আসুক, বিদেশে নারী শ্রমিক রফতানি প্রসঙ্গে তাদের সবার মতামত আমাদের জানা নেই। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা নারীদের বিদেশে কর্মসংস্থানকে ইতিবাচক উল্লেখ করে বলেছেন, নারীরা যদি বিদেশে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রশিক্ষণ নেন, সচেতন হন এবং সরকার যদি যথাযথভাবে নজরদারি করে, তবেই ঝুঁকিগুলো এড়ানো সম্ভব। 
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ সাল থেকে বিদেশে নারীদের কর্মসংস্থান শুরু হয়। ওই বছর মাত্র ২ হাজার ১৮৯ নারী বিদেশে কাজ করতে যান। ১৯৯৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৯৯৪ জন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা প্রথমবারের মতো বছরে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। 
২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি নারী শ্রমিক গেছেন সৌদি আরবে। এই সংখ্যা ৬৮ হাজার ২৮৬। অবশ্য সৌদি আরবেই নারী নিপীড়নের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়া জর্ডানে গেছেন ২২ হাজার ৬৮৯ জন। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ লাখ ৯৩ হাজার ১১১ নারী শ্রমিক বিদেশে গেছেন। এর মধ্যে ৩১ শতাংশই গেছেন জর্ডানে। এছাড়া আরব আমিরাতে ২৬ শতাংশ, সৌদি আরবে ১৫ শতাংশ, কুয়েতে ৪ শতাংশ এবং ওমানে ৩ শতাংশ নারী শ্রমিক গেছেন। এর মধ্যে জর্ডান ও লেবাননে পোশাক কারখানায় অনেক নারী কাজ করলেও বাকি দেশগুলোতে এখনও গৃহকর্মী হিসেবেই কাজ করতে যাচ্ছেন। ফলে কারখানার শ্রমিক নারীদের চেয়ে গৃহকর্মী শ্রমিক নারীরাই ঝুঁকিতে থাকেন সবচেয়ে বেশি। নির্যাতনের কারণে গত আড়াই বছরে সৌদি আরব থেকে হাজার খানেক নারী শ্রমিক ফেরত এসেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই ধর্ষণ ও নিপীড়নেরও অভিযোগ করেছেন। এমনতর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা যখনই অভিযোগ পাই তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করি। অন্তত ১০০ মেয়েকে আমরা ফিরিয়ে এনেছি। সচিবের নেতৃত্বে আমাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সৌদি আরব ঘুরে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলে এসেছেন। যেসব গৃহকর্তা এসব ঘটাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে ওই দেশের আইনে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিও আমরা দেখছি।’ (৯ এপ্রিল, ২০১৬, প্রথম আলো)। বাস্তবতা হলো, বিগত এক বছরে পরিস্থিতির বিশেষ উন্নয়ন ঘটেছে এমনটা প্রতীয়মান নয়। 
সম্প্রতি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ‘শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন : সমস্যা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। (১০ মার্চ ২০১৭, প্রথম আলো)। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর অনেক স্পর্শকাতর তথ্য বেরিয়ে আসে, যা মোটেও কাম্য নয়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে জনশক্তি পাঠানোর প্রক্রিয়াটা দালালনির্ভর। তবে তাদের দৌরাত্ম্য যে কতটা প্রকট, তা বেরিয়ে এসেছে টিআইবির গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, ভিসা কেনাবেচা আর ধাপে ধাপে দালালদের কারণে ৬ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে বিদেশগামীদের। 
বিষয়গুলো দেখভাল করার কথা প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। কিন্তু উল্টো সেখানেও ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ পেয়েছেন গবেষকরা। টিআইবি পরিচালিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশে যাওয়া বিদেশগামী পুরুষদের ৯০ শতাংশই দুর্নীতি ও অনিয়মের শিকার হচ্ছেন। আর ভিসা ও চাহিদাপত্র কিনতে শুধু ২০১৬ সালেই ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ২০১৬ সালের মে থেকে এ বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ, সাক্ষাৎকার, শ্রম অভিবাসন সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা, পর্যালোচনা, সরকারি-বেসরকারি তথ্য ও দলিল পর্যালোচনা করে টিআইবি গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করে।
সরকারি হিসাবে বিদেশে জনশক্তি রফতানি বাড়ছে। বর্তমানে দেশের বাইরে আছেন ৮০ থেকে ৮৫ লাখ প্রবাসী। ২০১৬ সালে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। গত আট বছরের মধ্যে এই সংখ্যা সর্বোচ্চ। বিদেশে কর্মী যাওয়ার হার এখনও ঊর্ধ্বমুখী। এ বছরের প্রথম দুই মাসেই ১ লাখ ৬৬ হাজার ৪৭২ জন কর্মী বিদেশে গেছেন, যা অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনার সর্বোচ্চ। তবে কর্মী বেশি গেলেও এই খাতে দুর্নীতি ও অনিয়ম কমেনি বা বন্ধ হয়নি। 
টিআইবির প্রতিবেদনে বিএমইটিতে ঘুষ-বাণিজ্যের আভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিও। ভিসা কেনাবেচার পর দূতাবাসে সত্যায়ন, ছাড়পত্র, আঙুলের ছাপ দেওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পুলিশি বাছাইসহ পদে পদে ঘুষ দিতে হয়। অভিযোগ আছে, বিএমইটির বহির্গমন শাখা থেকে ছাড়পত্র দিতে ঘুষ-বাণিজ্য চলে।
বাংলাদেশ এবং গন্তব্য দেশ দুই জায়গাতেই ভিসা কেনাবেচা হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে সৌদি আরব, বাহরাইন, ওমান, কাতার, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ভিসা কিনতে ৫ হাজার ২৩৪ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। হুন্ডি বা অন্য কোনোভাবে এই টাকা সেখানে পাচার হয়েছে। 
শ্রম অভিবাসন খাতে সুশাসনের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বালেন, ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের প্রক্রিয়াটি জটিল। এখানে দালালদের প্রাধান্য। প্রতিবেশী যে কোনো দেশের চেয়ে বাংলাদেশীদের বিদেশ যেতে বেশি খরচ হয়। সরকারের যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে।’
বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিকদের বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণত টাকা লাগে না। কিন্তু তাদের অনেকের কাছ থেকে দালালরা ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করতে গিয়ে অনেক নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হন। তবে টিআইবি বলছে, এই নির্যাতনের বিষয়ে তারা এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি।
বাংলাদেশ মহিলা অভিবাসী শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের (বমসা) পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম বলেন, ‘নারী কর্মীদের বিদেশে যাওয়াকে আমরা খুবই ইতিবাচকভাবে দেখি। একজন পুরুষ প্রবাসী কর্মী অনেক সময় কিছু টাকা বিদেশে খরচ করে কিছু টাকা দেশে পাঠান। বিপরীতে একজন নারী প্রবাসী কর্মী তার আয়ের পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দেন। তবে সংসার, সন্তান বা পরিজন ছেড়ে নারীরা এই যে বিদেশে থাকছেন, তারা যখন নিপীড়নের শিকার হন, তখন বিষয়টি খুবই অমানবিক। (৫ মার্চ ২০১৭, প্রথম আলো)। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, এই অমানবিক ঘটনাই আমাদের বারবার দেখতে হচ্ছে।
সমস্যা সমাধানে টিআইবি আইনের সংস্কার, ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু, দালালদের জবাবদিহি, দলীয় ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ব্যবস্থা বাতিলসহ ৯ দফা সুপারিশ করেছে। ১৯৯১ সাল থেকে বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠিয়ে বাংলাদেশের যে অভিজ্ঞতা তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নারী শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে আমাদের সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যাবে দেশে-বিদেশে। আমাদের নারী শ্রমিকরা স্বাধীনতা ধারণ করার সুযোগ পাবে নিজের উপার্জনের মধ্য দিয়ে। অর্থনৈতিক মুক্তি স্বাধীনতার স্বাদকে বাড়িয়ে দেয়। উপকৃত হয় সমাজ, উপকৃত হয় দেশ। অর্থযোগের সঙ্গে স্বাধীনতা সত্যিই স্বপ্নের চেয়ে বড়। আমাদের নারী শ্রমিকরা অর্থযোগ স্বাধীনতার সঙ্গেই বসবাস করুক।

Comments

comments

SHARE