বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেল অষ্টম শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী

0
97

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও ফরিদপুরের সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হস্তক্ষেপে বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পেয়েছে অষ্টম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী। চাঁদপুরে মেয়েটির বাবা ও বরকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চাঁদপুরের মতলব ইউএনও কার্যালয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি গ্রামে গত শনিবার রাতে অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের মো. আল আমিনের (৩৫) বিয়ের আয়োজন করা হয়। মেয়ের বাড়িতে অতিথিদের আপ্যায়ন শেষে কাজী বর-কনের বিয়ে পড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিয়ে ইউএনও মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম সেখানে গিয়ে বিয়ে বন্ধ করেন। পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কনে পক্ষের অনেকে বাড়ি থেকে সরে পড়েন। এ সময় আল আমিন ও মেয়ের বাবাকে (৩৬) আটক করে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। রাত সাড়ে নয়টায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও ও নির্বাহী হাকিম। গতকাল রোববার সকালে তাঁদের চাঁদপুর কারাগারে পাঠানো হয়।
কারাদণ্ড পাওয়া দুজন মুঠোফোনে বলেন, তাঁদের ভুল হয়েছে। ভবিষ্যতে আর এ কাজ করবেন না। এদিকে ওই স্কুলছাত্রী বলেছে, বিয়ে পণ্ড হওয়ায় তার জন্য ভালো হয়েছে। এখন লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।
ইউএনও বলেন, নির্ধারিত বয়সের আগে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার দায়ে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে দুজনকে এই কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে ফরিদপুরের সালথায় গতকাল রোববার দুপুরে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ ঠেকান ইউএনও মোহাম্মাদ মোবাশ্বের হাসান। আজ সোমবার এ বিয়ের দিন ধার্য ছিল।
ইউএনও মোবাশ্বের হাসান প্রথম আলোকে বলেন, বাল্যবিবাহ আয়োজনের খবর পেয়ে গতকাল দুপুরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগিতায় তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Comments

comments

SHARE