২৮ মার্চ ফরিদপুরে আসছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

0
118

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফরিদপুরে আগমন উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়ার সভাপতিত্বে এ সভায় সরকারী বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তাগণ, সাংবাদিক, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও এনজিও প্রতিনিধি অংশ নেন।

জানা গেছে, আগামী ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফরিদপুরে আসবেন। ওইদিন তিনি ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড ফলক উম্মোচন করবেন এবং শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জনসভায় ভাষন দেবেন। এ উপলক্ষে ফরিদপুরবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী ফরিদপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধনসহ ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন ঘোষনা, বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মতো ঝুলে থাকা ইস্যুগুলোর ব্যাপারে সময়োচিত ঘোষনা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ফরিদপুরে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও কুমার নদ খননের মতো ধীর প্রক্রিয়ার প্রকল্পে গতি আসবে বলেও অত্রাঞ্চলের মানুষের মাঝে ব্যাপক আশার সঞ্চার হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে।

এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় নিয়োজিত এএসএফসহ বিভিন্ন বাহিনীকে সহায়তাসহ ফরিদপুর শহরকে পরিস্কার পরিচ্ছন্নভাবে সাজানোর ব্যাপারে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন ২৮ মার্চ শহরে মোটর সাইকেল ও ইজিবাইক, বালুর ট্রাক ও ইটের ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। এসময় শহরের বিভিন্ন সড়কে বিচ্ছিন্নভাবে লাগানো ব্যানার, পোষ্টার ও বিলবোর্ড অপসারণ করে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত এক মাপের ব্যানার লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়। শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের সাতদিন আগে থেকে বুকিং নিষিদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। আবাসিক হোটেলগুলোকে নতুন বোর্ডার রাখার সময় সঠিকভাবে যাচাই বাছাই করে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

  • শহরের নদী গবেষনা ইন্সটিটিউট থেকে সিএন্ডবি ঘাট, রাজবাড়ি রাস্তার মোড় হতে টেপাখোলা লেকপাড়, আব্দআল্লাহ জহিরউদ্দিন লাল মিয়া সড়ক, নুরু মিয়া সড়ক, ফরিদশাহ সড়ক, ব্রক্ষ্মসমাজ সড়কের আশেপাশে গজিয়ে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে এসব সড়কের সৌন্দর্য্যবৃদ্ধির জন্য পৌর মেয়রকে অনুরোধ জানানো হয়। সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ, সার্কিট হাউজ, নদী গবেষনা ইন্সটিউিটসহ আশেপাশের সরকারী বিভিন্ন দফতরের বহিরাঙ্গণের সৌন্দর্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়। ২৮ মার্চ রাজেন্দ্র কলেজ এলাকাসহ শহরে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুত সরবরাহ বজায় রাখার জন্য পদক্ষেপ নিতে বিদ্যুতবিভাগকে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া ওইদিন জনসভাস্থল রাজেন্দ্র কলেজের মাঠে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটর চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। টিএন্ডটি অফিসের সামনে ১শ কেভি ট্রান্সফমারের স্থলে অধিক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফর্মার স্থাপনে সিদ্ধান্ত হয়। জনসভার পরিবেশ দুষনরোধে ফায়ার সার্ভিসকে ধুলা নিবারণে পানি ছিটানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ফরিদপুরের সিভিল সার্জনকে অ্যাম্বুলেন্স ও দু’জন চিকিৎসককে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর জনসভা মঞ্চের চিত্র দুর হতে অবলোকনের স্বার্থে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত হয় এ সভায়। ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনের দিন বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দিতে প্রয়োজনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পরবর্তীতে আরো সভা করার সিদ্ধান্ত হয সভায়।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে ফরিদপুরবাসীর মাঝে ব্যাপক আনন্দ উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। এ উপলক্ষে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিয়ে সকল ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। এব্যাপারে কারো কোন গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না। সকলকে দ্বায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করতে হবে।

সভায় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান মৃধা, পৌর মেয়র মাহতাব আলী মেথু, সদর উপজেলার চেয়ারম্যান খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর, জেলা আওযামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হাসান খন্দকার লেভি, সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী বরকত ইবনে সালাম, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব ইসলাম পিকুল, সাংবাদিক আহম্মদ ফিরোজ, সাংবাদিক পান্না বালাসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাগণ ও সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থলের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত এএসএফ বাহিনীর পরামর্শক্রমে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Comments

comments

SHARE