প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে ফরিদপুর সহরে

0
100

এক দিনের সফরে আগামীকাল বুধবার ফরিদপুরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফরিদপুরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোন প্রধানমন্ত্রী আসছেন ফরিদপুরে জনসভা করতে। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরবাসীর মাঝে তাই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দিপনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ফরিদপুরকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ নানা প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছেন। বিশেষ করে ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুসহ নানা স্বপ্ন পুরণের কথা শোনা যাচ্ছে জনগণের মুখে মুখে।

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কাজী নিশাত রসুল স্বাক্ষরিত এক ফ্যাক্স বার্তায় জানা গেছে, বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারে করে ফরিদপুরে আসবেন। এরপর ফরিদপুরের ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ১২টি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে বিকেল ৩টায় শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন তিনি।

ফরিদপুরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দাবি পুরণের প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে জেলার সর্বস্তরের মানুষ। এর মধ্যে, ফরিদপুর বিভাগ বাস্তবায়ন, ফরিদপুরে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন, পাইপ লাইনে গ্যাস সংযোগ স্থাপন ও কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন উল্লেখযোগ্য।

এদিকে,গতকাল সোমবার দুপুরে ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করা হয়। এসময় সদর উপজেলার চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোহতেশাম হোসেন বাবর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ফরিদপুরবাসী প্রস্তুত রয়েছে। দাবি দাওয়ার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর উপরেই আমরা ছেড়ে দিয়েছি। এসময় জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হাসান খন্দকার লেভি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে ১২৬টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার স্থাপন করা হয়েছে। সারা শহরকে বর্ণাঢ্য সাজে সাজানো হয়েছে।

ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল বলেন, ফরিদপুরে প্রধানমন্ত্রীকে নজিরবিহীন সংবর্ধনা দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। একইসাথে আশায় বুক বেঁধেছে শহরবাসী।

সরেজমিনে ফরিদপুর শহর প্রদক্ষিণ করে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ব্যাপক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। সড়ক বিভাজকসহ আশপাশের সব স্থাপনা ও ভবনে রঙ করা হয়েছে। শহরের প্রধান সড়ক মুজিব সড়কের ৫ কিলোমিটার রাস্তার দুই পাঁশে ব্যাপক আলোজসজ্জা করা হয়েছে গত তিনদিন ধরে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে সন্ধ্যার পর যেন আলোর বন্যায় ভাসছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, ফরিদপুর পৌরসভাসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোকে বর্ণিল আলোকসজ্জায় সাজানো হয়েছে। শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে ১২৬টি তোরণ নির্মাণসহ প্রধানমন্ত্রীর ছবি ও উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড সম্বলিত বিশালাকার প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার। উৎসুক শহরবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী যে ২০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন সেগুলো হলো- ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ভবন, ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নবনির্মিত ভবন, কবি জসীমউদদীন সংগ্রহশালা, ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি, শিশু একাডেমি ভবন, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপ মহাপরিদর্শকের কার্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ফরিদপুর ৫০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্লান্ট,সরকারি রাজেন্দ্র একাডেমিক কাম পরীক্ষা হল,কুমার নদের ওপর সেতু, ভাঙ্গা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, বিএসআইটি ভবন, ভাঙ্গা থানা ভবন, মধুখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন,সদর উপজেলায় বাখুন্ডা রসুলপুর ভায়া নিখুরদী সড়ক, সদরের ডিক্রিরচর ইউনিয়নের মুন্সীডাঙ্গি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ৩৩/১১ কেভি হাড়োকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র।

এ ছাড়া যে ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে সেগুলো হলো কুমার নদ পুনঃখনন, আলফাডাঙ্গা কারিগরী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পুলিশ অফিসার্স মেস, পুলিশ হাসপাতাল, সালথা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক ভবন, সদরপুরের চন্দ্রপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ১৫০০ আসন বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস হল, সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এবং সদরপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন প্রকল্প।

Comments

comments

SHARE