জিম্মি বাংলাদেশি শ্রমিকরা কুয়েতের ক্লিনিং কোম্পানিগুলোর কাছে

0
120

মধ্যপ্রাচ্যের খনিজ তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। ১৯৭৮ সাল থেকে কুয়েত সরকার বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য তাদের শ্রমবাজার উন্মুক্ত করে দেয়। যার ধারাবাহিকতায়, সরকারি হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি কুয়েতে রয়েছে। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কুয়েতের বিভিন্ন ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করছে।

তবে নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ২০০৫ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেয় কুয়েত সরকার। তবে বৈধ উপায়ে না হলেও ‘লামানা ভিসা’ নামে একটি নতুন ভিসায় বাংলাদেশিরা প্রতিনিয়ত প্রবেশ করছে কুয়েতে। ‘লামানা ভিসা’ আইনি প্রক্রিয়ায় বের করা হয় না। কিছু কুয়েতি অবৈধভাবে এই ভিসা বের করে উচ্চমূল্যে জনশক্তি রপ্তানির সাথে জড়িত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে বিক্রি করছে। তারা আবার সেগুলো আরো বেশি দামে বিক্রি করছে বাংলাদেশিদের কাছে। আর আমাদের দেশের সাধারণ জনগন এই উচ্চমূ্ল্যে ভিসা কিনে পাড়ি দিচ্ছে কুয়েতে। যাদের প্রায় সবাই অদক্ষ শ্রমিক।

কুয়েতে অনেকদিন ধরে বাস করা ও দেশটির একটি নির্মান প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কামরুল হাসান বাবলু জানান, ‘আমাদের দেশ থেকে যে শ্রমিকরা কুয়েতে আসছে, তারা বেশির ভাগই ক্লিনিং কোম্পানিতে কাজ করে। তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় দেড়লাখ শ্রমিক এসব কোম্পানিতে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশ থেকে শ্রমিক নেওয়ার ক্ষেত্রে, কুয়েতের বেশির ভাগ কোম্পানি দুই বছরের চুক্তি করে । বাবলু বলেন, আমাদের দেশ থেকে শ্রমিকরা লামানা ভিসায় কুয়েতে গিয়ে বৈধ ভাবে ভালো কোন কাজ করতে পারছে না। কারণ লামান ভিসার বৈধ কোন ভিত্তি নেই। আর এই সুযোগ নিচ্ছে কুয়েতের বিভিন্ন ক্লিনিং কোম্পানি।
কুয়েত প্রবাসী বাবলু বলেন, অনেক টাকা খরচ করে কুয়েতে গিয়ে শ্রমিকরা দুই বছরে তেমন আয় করতে পারছে না। যার কারণে দুইবছর পর চুক্তি শেষ হলেও বেশিরভাগই দেশে ফিরে আসতে চায় না। আর কুয়েতের সরকারি নিয়ম আনুযায়ী, একজন শ্রমিক কোনো কোম্পানিতে তিনবছর কাজ না করেলে তাকে সেই কোম্পানি থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় না। যার কারণে বাংলাদেশি শ্রমিকরা যে কোম্পানিতে কাজ করছে সেটি ছেড়ে অন্য কোম্পানিতে যেতে পারে না। বাবলু অভিযোগ করেন, আর এই বিষয়টিকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে কুয়েতের ক্লিনিং কোম্পানিগুলো । যে সব বাংলাদেশি শ্রমিকরা দুই বছরের লামানা ভিসা নিয়ে কুয়েতে যাচ্ছে, তাদের তৃতীয় বছর একই কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ করে দিচ্ছে ক্লিনিং কোম্পানিগুলো। আর এর বিনিময় তাদের কাছ থেকে কোম্পানিগুলো প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা করে নিচ্ছে বলে জানান কামরুল হাসান বাবলু।

বাড়তি একবছরের ভিসা দিতেই শুধু টাকা নিচ্ছেনা তারা। কুয়েত প্রবাসী কামরুল জানান, এর বাইরে, তিনবছর শেষে অন্য কোনো কোম্পানিতে কাজ করার জন্য ছাড়া পত্র পেতেও বাংলাদেশিদের একইভাবে দেড় থেকে দুই লাখ করে টাকা দিতে হচ্ছে ঐ কোম্পানিকে। লামানা ভিসায় একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের কুয়েত যেতে খরচ পড়ছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। আর এই ব্যয় তোলার জন্য চুক্তির নিরদিষ্ট সময়ের চেয়ে আরো অনেক বেশি সময় থাকতে হচ্ছে শ্রমিকদের। যার জন্য তাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত আরও ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা।

বাবুল জানান, ‘আমাদের দেশ থেকে বৈধ ভিসা চালু না থাকায় এই সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে শ্রমিকদের। কুয়েতে এই সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশি শ্রমিকদের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। তাই বাবুল জানান, সরকারি ভাবে কুয়েত যদি ভিসা বা শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য খুলে দেয় তাহলে এ সমস্যায় পড়তে হবেনা শ্রমিকদের। তাই বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক সর্ম্পক আরও জোরদার করার ওপর জোর দেন কামরুল হাসান বাবলু। তিনি মনে করেন, সরকারি ভাবে ভিসা প্রক্রিয়া চালু হলে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।

Comments

comments

SHARE