চাঁপাইনবাবগঞ্জের জঙ্গি আস্তানা থেকে এক নারী ও এক শিশু উদ্ধার

0
50

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শিবনগর-ত্রিমোহনী এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় দুই দিন ধরে চালানো অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশিদ হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এ অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়েছে। এক নারী ও এক শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশিদ হোসেন বলেন, জঙ্গি আবুল কালাম আবু ওই বাড়িতে অবস্থান করছিলÑ এমন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সকালে শিবনগরের একটি বাড়িতে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও পুলিশ অভিযান চালাতে গেলে জঙ্গিরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর বাড়িটি ঘিরে রাখেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় তাদের আত্মসমর্পণ এবং নারী ও শিশুদের বের করে দিতে বলা হয়। কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ না করায় ঢাকা থেকে সোয়াতের একটি টিম বুধবার বিকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিকাল ৪টায় তারা রেকি করে এবং সাড়ে ৪টায় অভিযান শুরু করে। তিনি জানান, এ সময় মানবিক কারণে নারী ও শিশুদের নিরাপদে বের করে  আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তাদের বারবার আহ্বান জানানো হয়েছিল বের হয়ে আসার। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে অপারেশন ঈগল হান্ট স্থগিত করা হয়। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও এ অভিযান শুরু হয়। জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের জন্য বলা হলেও তারা সাড়া দেয়নি। বিকালে আবুর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম ও মেয়ে সাজিদাকে নিরাপদে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আবুর স্ত্রী তিন মাসের গর্ভবতী বলে জানান তিনি। 
ডিআইজি খুরশিদ হোসেন জানান, আবু ও তার তিন সঙ্গীসহ মোট চারজন বিস্ফোরণে নিহত হয়। তবে আবু ছাড়া অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। বিকাল ৫টার দিকে আবুর স্ত্রী সুমাইয়া বেগম এবং ৫টা ২৩ মিনিটে তার মেয়ে সাজিদাকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। তারা বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তিনি জানান, অপারেশন ‘ঈগল হান্ট’ সমাপ্ত হলেও এখন বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিট ও এরপর ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করবে। 
এদিন সকাল থেকে সোয়াত অভিযান শুরু করে। অভিযানের আগে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। অভিযান চলাকালে সারা দিনই থেমে থেমে গুলি ও তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। ওই বাড়ি ঘিরে রাখার পর থেকে শিবনগর ও এর আশপাশের এলাকায় বুধবার ভোর ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এর আগে বুধবার রাতে সংবাদ সম্মেলনে সোয়াত ও কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার প্রলয় কুমার জোয়ার্দার জানান, আবু জেএমবির সক্রিয় সদস্য। 
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তা সহকারী উপকমিশনার আবদুল মান্নান বিডিনিউজকে বলেন, ‘একতলা ওই বাড়ির ভেতরে নারী ও শিশুসহ চারজন আছে বলে আমরা ধারণা করেছি।’ সাম্প্রতিক কয়েকটি অভিযানের মধ্যে ‘অপারেশন ঈগল হান্ট’ নাম দেয়া এ অভিযানে দুইজন জীবিত পাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ডিআইজি খুরশিদ। অভিযান সমাপ্ত ঘোষণার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘অন্য অপারেশনের চেয়ে এটা আমরা সফলভাবে শেষ করতে পেরেছি। এ অভিযানে আমরা আবুর স্ত্রী ও মেয়েকে জীবিত বের করে আনতে সমর্থ হয়েছি।’ ডিআইজি বলেন, ‘ভেতরে থাকা নারী ও শিশুদের কথা চিন্তা করে তাদের বারবার বের হয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়। সবশেষ বিকালেও মাইকিং করে তাদের বের হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।’ শিবগঞ্জের মোবারকপুর ইউনিয়নের ত্রিমোহিনী গ্রামে আমবাগান ঘেরা আধাপাকা ওই বাড়ি থেকে বিকাল ৫টার দিকে আবুর স্ত্রী ও মেয়েকে বের করে আনার দেড় ঘণ্টা পর অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা আসে। এর আগে চট্টগ্রাম ও সিলেটে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় নিরাপত্তা বাহিনী। 
কে এই আবু : শহর থেকে দূরে পল্লীর একতলা ওই বাড়িতে মাস তিনেক ধরে রফিকুল আলম আবু তার স্ত্রী ও ৮ ও ৬ বছর বয়সী দুইটি মেয়ে নিয়ে সাইদুর রহমান ওরফে জেন্টু বিশ্বাসের ওই বাড়িতে থাকছিল। ৭৫ বছর বয়সী জেন্টু বিশ্বাস পরিবার নিয়ে পাশেই আরেকটি বাড়িতে থাকে। খবর বিডিনিউজের। 
স্থানীয়রা জানান, মাস তিনেক আগে একই উপজেলার চাঁচরা গ্রামের দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে আবু এ বাড়িতে ওঠে। এক সময় মাদরাসায় পড়া আবু একজন ভ্রাম্যমাণ মশলা বিক্রেতা। ত্রিমোহনীর ওই বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে চাঁচরা গ্রামে তার বাবা-মা থাকেন। আবুর মা ফুলছানা বেগম বলেন, প্রায় ৯ বছর আগে সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে বিয়ের পর একই উপজেলার আব্বাস বাজারে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন আবু। ছেলেবেলায় আবু চাঁচরা গ্রামের মাদরাসায় পড়াশোনা করেন বলে জানালেও কোন শ্রেণী পর্যন্ত সে পড়েছেন এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তার মা। তিনি জানান, আবু দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড়।

Comments

comments

SHARE