চরভদ্রাসনে হুমকীর মুখে বিধ্বস্ত বালিয়া ডাঙ্গী ও ফাজেলখার ডাঙ্গী

0
153

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদর ইউনিয়নের বালিয়া ডাঙ্গী ও ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের সংযোগ বেড়িবাঁধের কালভার্ট পয়েন্টটি গত বছর বিধ্বস্ত হওয়ার পর আজও স্থায়ী মেরামত হয়নি। গত ক’দিনের ভারী বর্ষনে বেড়িবাঁধের মধ্যে ফাটল সহ খানাখন্দ হয়ে আছে। পদ্মা নদীর তীর এলাকায় ওই বেড়িবাঁধের বিধ্বস্ত কালভার্ট এলাকা আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চরম হুমকীর মধ্যে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধের বিপরীত ঢালের বসতি তারা মিয়ার স্ত্রী লাকী আক্তার (৪০) জানায়, “ গত বছর বন্যার সময় বেড়িবাঁধের এ অংশ ধ্বসে যাওয়ার পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা তাড়াহুরা করে বাঁশ খুটি পুতে কিছু মাটি ফেলে চলে গেছেন। সারা বছরে আর কোনো খবর নেয় নাই। খানাখন্দে ভরা বেড়িবাাধের ফাটল অংশে পাশের পদ্মা নদীর স্রোত আঘাত হানলে বেড়িবাঁধ সহ অনেকগুলো বসতভিটে বিলীন করে নিয়ে যাবে। ওই গৃহিনী দ্রুত বেড়িবাঁধটি স্থায়ী মেরামত করার জন্য অনুরোধ জানায়”।

জানা যায়, উপজেলা সদর ইউনিয়নটি ত্রিমূখী পদ্মা নদী বেষ্টিত। আর পদ্মা নদীর পাড় সীমানায় তিন দিক ঘিরে গড়া হয়েছে উপজেলা রক্ষা বেড়িবাঁধ। উপজেলার উত্তর-পশ্চিম দিকে এম.পি. ডাঙ্গী গ্রামের ম্যাজিষ্ট্রেট বাড়ী নামক পাকা সড়ক হয়ে বড় বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের নদীর পাড় পর্যন্ত রয়েছে পদ্মা রক্ষা বেড়িবাঁধ। এ ছাড়া উপজেলা সদরের উত্তর-পূর্ব দিকের বালিয়া ডাঙ্গী গ্রাম, ফাজেলখার ডাঙ্গী ও কুটি বালিয়া ডাঙ্গী গ্রামের জেলখানা পর্যন্ত বিস্তৃত রযেছে আরো প্রায় ৭ কি.মি. বেড়িবাঁধ। সবগুলো বেড়িবাঁধই উপজেলায় বন্যা প্রতিরোধক হিসেবে নির্মান করা হয়েছে। এরমধ্যে উপজেলা সদরে বালিয়া ডাঙ্গী ও ফাজেলখার ডাঙ্গী গ্রামের সংযোগ বেড়িবাঁধের কালভার্ট পয়েন্টটি গত বছর বন্যায় ধ্বস দেখা দেয়। সে সময়ে ফরিদপুর পাউবো বাশঁ খুটি পুতে কিছু মাটি ফেলে সামঢিক মেরামত করেন। কিন্তু বছর ভরে অতিবৃষ্টি অনাবৃষ্টি ও ভারী বর্ষনে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধটি আরও জীর্ণ শীর্ণ হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর স্রোতের ধাক্কায় বেড়িবাঁধটি বিলীন হওয়ায় শঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকাবাসী। ওই ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ এলাকার আরেক বসতি শাহজাহান সেক (৫৫) জানায়, “ আসন্ন বর্ষায় পদ্মা নদীর স্রোতে বিধ্বস্ত বেড়িবাঁধ পয়েন্টটি ভাঙতে পারলেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ উপজেলা সদর এলাকা পানিতে ডুবে যাবে এবং বহু বসতভিটের ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তাই তিনি বর্ষার আগেই বেড়িবাঁধটি স্থায়ী মেরামতের দাবী জানান”।

Comments

comments

SHARE