এস,এস,সি পরীক্ষায় পাস করার পর শিক্ষাথীদের আনন্দ উল্লাস

0
43

মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের (দাখিল, এসএসসি-ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অনেকেই ফেলেছে আনন্দ-অশ্রু। সন্তানের অর্জনে চোখের জল ফেলছেন মা। অন্যদিকে দল বেঁধে চিৎকার করে আনন্দ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার এসএসসির ফল প্রকাশের পরপরই রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। 
দুপুরে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফল প্রকাশের আগেই জড়ো হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। সবার চোখে-মুখে ছিল অজানা উদ্বেগ। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ভালো ফল করবে- এমনটাই ধারণা ছিল সংশ্লিষ্টদের। ফল প্রকাশের পরই পাল্টে যায় বেইলি রোড ক্যাম্পাসের দৃশ্য। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হুমড়ি খেয়ে পড়ে নোটিশ বোর্ডের সামনে। ফল দেখেই আনন্দে চিৎকার শুরু করে অনেকে। অভিভাবকরা ফল শুনেই আনন্দে সন্তানকে জড়িয়ে ধরেন। সন্তানের প্রত্যাশিত ফল দেখে অনেক মা চোখের জল ছেড়ে দেন। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সুলতানা রাজিয়া বলে, অনেক কষ্টের পর আজকের এ ফল। ভবিষ্যতে ডাক্তার হতে চায় সে। মুন্নি নামের আরেক শিক্ষার্থী বলে, রেজাল্ট দেখার পর আর আনন্দ ধরে রাখতে পারছি না। আমার এ অর্জনের পেছনে আমার আব্বু, আম্মু ও শিক্ষকদের অনেক পরিশ্রম রয়েছে। এ সময় মাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করে সে। মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে দেখে আনন্দে কাঁদতে  কাঁদতে এক মা বলেন, বাচ্চারা কত কষ্টটাই না করেছে। আজ যখন রেজাল্ট হাতে পেলাম, তখন নিজেকে আর সামলাতে পারলাম না।
কলেজের অধ্যক্ষ সুফিয়া খাতুন জানান, এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৫৯৬ জন। একজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পাস করেছে ১ হাজার ৫৯৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৬৮ জন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে ভিকারুন্নিসার শিক্ষার্থীদের এ অর্জন। আমি অধ্যক্ষ হিসেবে সন্তুষ্ট। কারণ শুধু পড়াশোনায় নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতি সব জায়গায় আমাদের মেয়েদের অর্জন আমাদের প্রতিষ্ঠানকে গৌরবান্বিত করে।
দুপুর ২টায় ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার মোঃ আবদুল মান্নান ভূঁইয়া শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ ৫ বছরের সাধনার ফল প্রকাশ করেন। এ সময় কলেজ প্রাঙ্গণে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা আনন্দ-উল্লাস। ফল পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নেচে গেয়ে উল্লাস করতে শুরু করে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ বাঁধভাঙা আনন্দ ও উল্লাসের সাক্ষী হতে দেখা যায় অনেক অভিভাবককেও। তারাও মাঠের মধ্যে নেমে পড়েন আনন্দ-উল্লাস করতে। 
জানা গেছে, এ বছর ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ থেকে মোট ৫৩৫ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ৫৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪২৪ জন। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৪৫৯ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১৭ জন, ব্যবসায় শিক্ষা থেকে ৪৭ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন এবং মানবিক শাখা থেকে ২৯ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে দুইজন। গেল বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ বেশি পেয়েছে এ স্কুলের শিক্ষার্থীরা। 
অধ্যক্ষ বলেন, বরাবরের মতো সাফল্যের এ ধারাবাহিকতা রক্ষার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ামক কাজ করেছে, সেসবের মূলে রয়েছে সাম্প্রতিককালে গৃহীত বিশেষ একাডেমিক কার্যক্রম, ছাত্রদের পাঠোন্নতির নিয়মিত মনিটরিং, শিক্ষকম-লীর আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ছাত্রদের একনিষ্ঠ অধ্যয়ন। 
বরাবরই সাফল্যের উচ্চশিখরে থাকা রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজেও দেখা যায় শিক্ষার্থীদের গগনবিদারি আনন্দ-উল্লাস। বাদ্যযন্ত্র নিয়ে তারাও উদযাপন করে জীবনের এ মুহূর্তটিকে। 
জানা গেছে, এবার এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৬২৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে শতভাগ। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬৫ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫৬২ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫২৫ জন। ব্যবসায় শাখা থেকে ৬৩ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪০ জন। 
কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম সালেহীন বলেন, আমরা প্রতিটি শিক্ষর্থীর আলাদা টেককেয়ার এর ব্যবস্থা করি। প্রতিটি শিক্ষার্থীর দুর্বল পয়েন্টে বিশেষ নজর দেয়ার চেষ্টা করি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নিয়ে আমরা আলোচনা সভার আয়োজন করি। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রমের সিলেবাস সময়মতো প্রদান করে একাধিক পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করি।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও ভালো ফল করেছে ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা। এ বছর এ প্রতিষ্ঠান থেকে ৭৪৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ৭৪৫ জন। গেল বছর এর পাসের হার শতভাগ হলেও এবার পাসের হার কমে হয়েছে ৯৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এবার এ স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১০ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ৫০৯ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৭১ জন। ব্যবসায়ী শাখা থেকে ২৩৮ জনের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৯ জন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়মিত পড়া আদায়ের চেষ্টা করি। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলেই প্রতি বছর আমরা ভালো ফল করছি।
এদিকে রাজধানীর আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে (মতিঝিল) মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ হাজার ৫১১ জন। পাসের হার শতভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩৭১ পরীক্ষার্থী। 
অধ্যাক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বলেন, গেল বছরের তুলনায় এ বছর এ ফলের হার বেশি। জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও বেশি। গতবারের তুলনায় এবার পরীক্ষায় নম্বর তোলা অপেক্ষাকৃত কঠিন ছিল। কারণ এবার বহুনির্বাচনী অংশের নম্বর ৪০ থেকে কমিয়ে ৩০ করা হয়েছে। আর সৃজনশীল অংশের নম্বর ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৭০ করা হয়েছে। বহুনির্বাচনীর তুলনায় সৃজনশীল প্রশ্নে নম্বর তোলা কঠিন। বহুনির্বাচনীতে ১০টা প্রশ্নে ১০ নম্বর পাওয়া যায়। কিন্তু সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরে ১০ নম্বরের মধ্যে ১০ নম্বর তোলা প্রায় অসম্ভব। যারা দক্ষ এবং মেধাবী শিক্ষার্থী, তারাই সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে। 
এদিকে ফল প্রকাশের পরই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস। তাদের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা। দল বেঁধে একে অপরের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে আনন্দ প্রকাশ করছিলেন সহপাঠীরা। তাদের দেখে আনন্দের অশ্রু ঝরাতে দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে। শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম আর শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যায় ফল ভালো হয়েছে বলে মনে করেন অনেক অভিভাবক। তবে অভিভাবকদের ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন শিক্ষকরা। অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পেছনে শিক্ষার্থীদের মেধা এবং পরিশ্রম সবচেয়ে বেশি জরুরি। তবে শিক্ষকদের নিবিড় পরিচর্যা এবং অভিভাবকদের উৎসাহ বড় ভূমিকা রাখে। 
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় রাজধানীর উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৪৭৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪১ জন।

Comments

comments

SHARE