একচ্ছত্র আধিপত্য ভারত ও মিশরের কুয়েতের শ্রমবাজারে

0
73

মধ্যপ্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশ কুয়েত। পারস্য উপসাগরীয় এই দেশটির আয়তন মাত্র ১৭, ৮২০ বর্গকিলোমিটার। একদিকে সৌদি আরব আর অন্যদিকে ইরাকের সাথে সীমান্ত। প্রযুক্তি, অর্থনীতি, বাণিজ্য, অবকাঠামো সবকিছুতেই শুধু আরব অঞ্চলেই না, সারা বিশ্বেই শীর্ষ দেশগুলোর একটি কুয়েত। আর এই উন্নয়নে সিংহভাগ অবদান প্রবাসী কর্মীদের।

দেশটির মোট জনসংখ্যা ৪৫ লাখ। তার মধ্যে ৩০লাখই বিভিন্ন দেশের প্রবাসী নাগরিক। কুয়েতের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান মারাফি গ্রুপ অব কোম্পানিজ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শহীদ ইসলাম পাপুল জানান, দেশটির বেসরকারি খাতের ৯০ শতাংশ চাকরিই প্রবাসীদের দখলে। আর সরকারি খাতেও ৩০ থেকে ৪০ ভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরা। দুই জায়গাতেই অনেকটা একচ্ছত্র আধিপত্য ভারত আর মিশরের।

বিশাল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার প্রবাসী বাংলাদেশি শহীদ ইসলাম বলেন, ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের ৬০ ভাগ চাকরি ভারতীয়দের দখলে, এরপরই রয়েছে মিশরীয়রা। চিকিৎসা খাতেও আধিপত্য ভারতীয়দের, ৬০ ভাগ জুড়েই রয়েছে আমাদের প্রতিবেশি দেশের প্রবাসী কর্মীরা, ৫০ শতাংশ মিশরের নাগরিক, স্থানীয় কুয়েতিসহ অন্যান্য দেশের নাগরিক মাত্র ১০ ভাগ। আর শিক্ষা খাতে ৬০ শতাংশ মিশরীয়দের দখলে, এখানে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে ভারত। আর মানি এক্সচেঞ্জ এর ৯০ ভাগের মালিকই ভারতীয়। কুয়েতের ইলেকট্রনিক, প্রিন্টসহ সব ধরনের মিডিয়ার বেশিরভাগ কর্মীই মিশর আর লেবাননের, তবে আরব ভাষাভাষিদের দেশে মিডিয়াগুলোতেও ১০ ভাগ জায়গা জুড়ে রয়েছে ভারতের নাগরিকরা।96796ytuyjghjaaaaaaaaaaaa

২৫ বছর ধরে কুয়েতে বাস করা সেখানকার মূল ধারায় প্রতিষ্ঠিত এই বাংলাদেশি ব্যবসায়ী জানান, দেশটির দক্ষ, অদক্ষ, আধাদক্ষ খাত- সব জায়গাতেই ভারত আর মিশরের আধিপত্য। ৩০ লাখ প্রবাসীর মধ্যে ৮ লাখ ২০ হাজার ভারতীয়, আট লাখ মিশরের। বাংলাদেশিরা দক্ষ খাতে এক শতাংশ বা তারও কম, আর অদক্ষ শ্রমিকদের মধ্যেও বাংলাদেশিদের হার মাত্র পাঁচ শতাংশ। ৩০ লাখ প্রবাসী কর্মীর মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ৪০হাজার।

শহীদ ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দশ বছর বন্ধ থাকার পর, গত দুই বছর হলো কুয়েতের শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে। আর এই লম্বা সময় বন্ধ থকায় বাংলাদেশিদের অবস্থান অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। কুয়েত আ্ওয়ামী লীগের আহবায়ক কাজী শহীদ জানান, দেশটির প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রথম স্থানে ভারত, তাদের অনেকেই স্থানীয় কুয়েতিদের সাথে জাতীয় পর্যায়ে ব্যবসা করছে।

কুয়েতের খাদ্যপণ্যের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য ভারতের। সম্প্রতি অয়েল রিফাইনারি বা তেল শোধানাগার, অয়েল ফিল্ড কন্সট্রাকশন ও রি-কন্সট্রাকশন এ বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে ভারতীয়রা। তিনি বলেন, মোট পাঁচ-সাত জন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আছেন যারা দেশটিতে প্রবাসী ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগিই তৈরী পোশাক আর সবজির ব্যবসা করেন। পাইকারি-খুচরা দু ভাবেই ব্যবসা করেন তারা। তবে কুয়েতের মুদি দোকানের ৯০ ভাগের মালিকই প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কাজী শহীদ বলেন, বেসরকারি খাতে প্রবাসী কর্মীদের একচ্ছত্র আধিপত্য এবং সরকারি চাকরিরও ত্রিশ শতাংশ প্রবাসীদের দখলে চলে যাওয়ায় স্থানীয় নাগরিকদের স্বার্থে কুয়েত সরকার নতুন নীতি নিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির সরকার এক তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩০ লাখ প্রবাসী 45324532453rewdeকর্মীর মধ্যে ১০ লাখ কর্মী ছাটাই-এর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যাদেরকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। বেসরকারি সব ধরনের দক্ষ, আধা দক্ষ খাতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ কুয়েতি নাগরিকদের নিয়োগ দেয়া হবে। ব্যাংকসহ আর্থিক সব ধরনের চাকরিতে ৬০ শতাংশ নিয়োগ হবে কুয়েতিদের জন্য। অদক্ষ খাতেও কমপক্ষে ৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ চাকরি সংরক্ষিত থাকবে স্থানীয়দের জন্য।

ক্রমশ প্রবাসীদের আধিপত্যের মুখে স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির নিরাপত্তার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান শহীদ ইসলাম। তিনি বলেন, এতে করে সবচেযে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে ভারতীয় ও মিশরীয়রা। দেশ দুটির লাখ লাখ কর্মীকে চাকরি হারিয়ে দেশে ফিরে যেতে হবে। কারণ দক্ষ চাকরির বেশিরভাগেই ভারত আর মিশরের নাগরিকদের দখলে। কুয়েত সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রভাব বাংলাদেশিদের উপর খুব একটা পড়বেনা বলেই মনে করেন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক কাজী শহীদ। কারণ কুয়েতে দক্ষ খাতে বাংলাদেশিদের হার খুবই নগণ্য, অদক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিকদের হারও তেমন উল্লেখযোগ্য না।

Comments

comments

SHARE