“উম্মে সালমা তানজিয়া” ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি)।

0
85

“উম্মে সালমা তানজিয়া”
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক
(ডিসি)। অল্পদিনের মধ্যেই
তিনি ফরিদপুরবাসীর প্রাণের
মানুষে পরিণত হয়েছেন। তার
কার্যক্রমের সুনাম ইতিমধ্যে
জেলা ছাপিয়ে ছড়াচ্ছে
দেশজুড়ে। বিভিন্ন প্রশাসনে
কর্মরতরাও তার প্রশংসায়
পঞ্চমুখ। তিনি শুধু ফরিদপুর
জেলার অভিভাবকই নয়, একজন
মমতাময়ী মা’ও।
এমন একটি ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি
বলেনঃ
গতকাল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে ৪ বছরের
মেয়েটিকে একলা রেখে মারা
যায় অজ্ঞাত পরিচয় মহিলাটি।
বাচ্চাটির পরিচয় জানতে তার
ছবিসহ পত্রিকায় খবর ছাপা হলে
ফ্রান্স, ইউএসএসহ পৃথিবীর
বিভিন্ন এলাকা থেকে
বাচ্চাটিকে দত্তক নেবার জন্য
আমাকে(উম্মে সালমা
তানজিয়া) ফোন করতে থাকে
অসংখ্য মানুষ। অভিভাবকহীন
মেয়েটিকে কোথায় পুনর্বাসিত
করা যায় সে বিষয়ে এ সংক্রান্ত
কমিটির জরুরী সভা চলাকালে
১১/১২ বছরের একটি ছেলে আমার
রুমে এসে দাবী করে মেয়েটি
তার বোন।
মেয়েটিও ছেলেটিকে ভাই বলেই
ডাকছিল। ছেলেটির কাছ থেকে
জানা যায় তার বাবার ফোন
নম্বর। কথা হয় তার সাথে।
ছেলেটি জানায় তার বাবা
বাসের কন্ট্রাক্টর। তাদের বাড়ী
নারায়ণগঞ্জে। অভাবের তাড়নায়
তার মা তাদেরকে নিয়ে
ফরিদপুরে মামা বাড়ীতে আশ্রয়
নিতে আসে। মামারা তাদেরকে
বাড়ীতে আশ্রয় না দেওয়ায় তার
মা অন্যের বাড়ীতে কাজ করতে
শুরু করে আর সে গ্যারেজে। তার
মায়ের বাড়ী ঈশান গোপালপুরে
খোঁজ নিয়ে জানা যায় মৃত
মানুষটির নাম “শৌখিন”।
সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে
শৌখিন অল্প বয়সে ভালবেসে ঘর
ছাড়ে। ঘরছাড়া শৌখিন কাল
পৃথিবী ছেড়েছে। প্রিয়মুখগুলোর
কেউই তখন ছিলনা তার পাশে।
এক ফোটা প্রিয় অশ্রুও জোটেনি
তার শীতল কপালে।
ডিসি স্যারের প্রশংসা করে
শেষ করা যাবে না। তিনি যেমন
কর্মঠ, তেমনি মমতাময়ী। তার
মতো অভিভাবক পেয়ে আমরা
ফরিদপুরবাসি ধন্য।

Comments

comments

SHARE